জাতীয়করণকৃত সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষকের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের জটিলতার অবসান

এক অ্যাপেই সব চাকরি ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি

জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নতি ও টাইমস্কেল ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই হিসাব করা হবে বলে জানিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি রায় দেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী ব্যারিস্টার মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ২০১৩ সালে সারাদেশে ২৬ হাজার ১৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ ঘোষণা দেয় সরকার। এসব বিদ্যালয়ে সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষক ছিলেন। জাতীয়করণের ফলে তাদের নিয়োগ ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে হিসাব করা হবে বলে ধার্য করা হয়েছে।

এর আগে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের চাকরিকালের ৫০ শতাংশ হিসাব করে রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তবে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারিকেই হিসাব করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, এসব সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের কিছু সংখ্যক শিক্ষকরা। এরপর হাইকোর্ট রিটকারীদের পক্ষে রায় দেন। পরবর্তীকালে এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিলবিভাগে আপিল দায়ের করে।

এ সময় মোট ৬টি যুক্তিতে আপিল দায়ের করা হয়। আজ আপিলবিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করেছেন বলে জানান এই আইনজীবী।

এর ফলে জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের নিয়োগ, জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ, পদোন্নতি ও টাইমস্কেল ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সময় বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হবে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন- অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সরকার ২০১৩ সালে ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক স্কুলকে অধিগ্রহণ করে। তখন সরকার একটি আইন প্রণয়ন করল। সে আইনে বলা হলো অধিগ্রহণ স্কুলের সবাই যোগদান করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধান শিক্ষকসহ তারা যোগদান করবে সহকারী শিক্ষক হিসেবে। তার মানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে তারা পূর্বে দায়িত্ব পালন করলেও আইন অনুযায়ী তারা সবাই যোগদান করলেন সহকারী শিক্ষক হিসেবে। তখন তারা সেটা মেনে নিলেন। কিন্তু ওই আইনের মধ্যে একটা বিধান যেটাতে বলা হলো যারা সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত হবে, তাদের সিরিয়ালটা হবে উপরে।

ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আর যারা অধিগ্রহণ করা বেসরকারি স্কুল থেকে যারা এসেছেন তাদের সিরিয়ালটা হবে তাদের নিচে এবং তাদের আগের সময়কালের তারা যে চাকরি করেছে, চাকরির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে পেনশন ৫০ শতাংশ কাউন্ট করা হবে, পেনশনের ক্ষেত্রে, গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রে। তো তারা বলল যে, না। আমরা আগে প্রধান শিক্ষক ছিলাম। আমরা এখন প্রধান শিক্ষক হব।

তিনি আরও বলেন, আমরা এতদিনকার সিনিয়রিটি, আমরা ৫০ শতাংশ কেন কাউন্ট হবে? এবং তারা বললেন ৫০ শতাংশ কাউন্ট হলেও আমাদের প্রমোশনের ক্ষেত্রেও এগুলো হবে। তারা হাইকোর্টে রিট করলেন। সবগুলো মিলিয়ে হাইকোর্টে রায় দিলেন যে, তাদেরকে যে এই পেছনে দেওয়া হলো, এটা আইনটা বাতিল করে দিলেন।

ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, এই আইন বাতিলের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করলেন। আজ আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করেছেন। এর ফলে প্রায় ৩২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকার জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করতে পারবে সরকার।

তথ্যসূত্র : দৈনিক কালবেলা।

বিনামুল্যে প্রস্তুতি!

ফ্রি পরীক্ষা

কারেন্ট অ্যাফেয়ারস

জব সার্কুলার

লেকচার শিট

প্রিয় শিক্ষালয় থেকে এক্সক্লুসিভ স্টাডি ম্যাটেরিয়াল সরাসরি পাবেন আপনার মেইলে!

এক্সক্লুসিভ কন্টেন্ট

Priyo Shikkhaloy App

সর্বশেষ প্রকাশিত

এরকম আরও ব্লগ

Priyo Shikkhaloy App